টেস্ট জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন পেস বোলিং ইউনিট: ডোমিঙ্গো


ডোমিঙ্গো

ইন্দোরে প্রথম টেস্টে ভারত তিন পেসার নিয়ে খেললেও বাংলাদেশ খেলছে দুই পেসার নিয়ে। দ্বিতীয় দিন শেষে এই পেস বোলারের সংকট নিয়ে কথা বললেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। তিনি মনে করেন, টেস্ট জিততে এমন এক বোলিং ইউনিট জরুরি, যেখানে থাকবে পেস বোলার।

ব্যাটিং একাদশকে প্রাধান্য দিতেই মাত্র দুই পেসার নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ। তাদের মধ্যে কেবল রাহীই দুই দিন ছিলেন কার্যকরী। নিয়েছেন ৪টি উইকেট।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে তাই পেসারদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো, ‘টেস্ট জিততে হলে একটা বোলিং ইউনিট জরুরি। যেখানে প্রয়োজন ৬জন পেস বোলার, যাদেরকে যে কোনও সময় দলে নেওয়া যাবে। আমার মনে হয় ভারত এ কারণেই ভালো করছে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকাও কিন্তু পেস বোলারদের দিয়ে ভালো করছে। কারণ তাদের এমন একটি গ্রুপ আছে যেখানে ৫ থেকে ৬জন পেসার খেলছে। যাদের কিনা যে কোনও মুহূর্তে যে কোনও কন্ডিশনে ব্যবহার করা যায়।’

পেস বোলারদের সংকটের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আরেকটি দুর্বল দিকও তুলে ধরলেন ডোমিঙ্গো। বাংলাদেশ স্পিন ট্র্যাকেই বেশি করে খেলতে অভ্যস্ত। এ কারণে পেস আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন তারা। তাই স্পিন আক্রমণে বেশি খেলার কারণে বাংলাদেশের শক্তির জায়গা কেবল স্পিনেই। ডোমিঙ্গো মনে করেন, ‘বাংলাদেশের শক্তির জায়গা হলো ওরা খুব বেশি স্পিন ট্র্যাকে খেলে অভ্যস্ত। এ নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে পেসাররাও যেন পারফর্ম করতে পারে এর সুযোগ করে দিতে হবে।’

এই অবস্থায় ব্যর্থতাকে সফলতায় রূপ দিতে প্রয়োজন দলের কাঠামোগত পরিবর্তন। হেড কোচ ডোমিঙ্গো অবশ্য এই পরিবর্তনের পক্ষে, ‘দলের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন এ নিয়ে সন্দেহ নেই। না হলে ফলাফল একই রকম হতে থাকবে। তাই নির্বাচকদের সঙ্গে আমার বসতে হবে। ’

টস জিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ১৫০ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ভারতের লিড ৩৪৩ রান। দ্বিতীয় দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৪৯৩ রান। প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতা হিসেবে অনভিজ্ঞতাকে দায়ী করলেন টাইগারদের দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ, ‘আমরা এখনও শিখছি। এই টেস্ট টিমটা খুব বেশি অভিজ্ঞ নয়। মুমিনুল প্রথম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে খেলছে। ‍আর নেতৃত্বে অভিষেক হিসেবে এই জায়গাটা সত্যিই কঠিন। তবে আমি নিশ্চিত মুমিনুল আজকের পর অনেক কিছুই শিখেছে। তবে একটি টেস্টের মাত্র দুটি দিন দিয়েই ওকে বিচার করা ঠিক হবে না।’

দুই দলের পারফরম্যান্সে কেন এত পার্থক্য? এর ব্যাখ্যায় ডোমিঙ্গো বললেন, ‘ভারত অনেক দিন ধরেই টেস্ট খেলছে, একই সঙ্গে সফলও। বাংলাদেশ শেষ ৬-৭ মাসে সম্ভবত দ্বিতীয় টেস্ট খেলছে। আর ভারত তিন মাসেই খেলেছে ১০টি টেস্ট! তাই দুই দিনেই আমরা ছিটকে গেছি। আর এই অভিজ্ঞতাই ওদের আর আমাদের দলের মধ্যে এত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’

এসএম/আওয়াজবিডি