সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজা প্রধান শিক্ষকের বাসভবনে


বিদ্যালয়ের দরজা

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পেস্কারগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বিদ্যালয়ের দরজা সরকারি পরিপত্র অনুসরণ না করে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দরজা নিজের বাস ভবনে লাগিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিরুদ্ধে।

এঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এমনি অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোঃ হারুনুর রশিদ। তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের পেস্কারগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

জানা যায়, উপজেলার পেস্কারগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাল মানের ও ব্যবহারের উপযোগী দরজা, জানালা নষ্ট হয়েছে বলে বিদ্যালয়ের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তা খুলে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে তালা বদ্ধ করে রাখেন। কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পর বিদ্যালয়ের কাউকে না জানিয়েইকিছু দিন যাওয়ার পর বিদ্যালয়ের কাউকে না জানিয়েই প্রধান শিক্ষক দরজা নিয়ে নিজের দ্বিতল বাস ভবনের নিচ তলায় লাগিয়ে দেন।

প্রধান শিক্ষক দরজার প্রতি লোভ ছিল বিধায় ভাল মানের ব্যবহারের উপযোগী দরজা খুলে তিনি নতুন দরজা লাগান স্কুলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান।

এমন অভিযোগে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বিদ্যালয়ের ষ্টোর রুমে রাখা টেবিল চেয়ার দরজা জানালা আবদ্ধ করে রাখা হলেও কয়েকটি দরজা জানালা ষ্টোর রুমে নেই।

এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ বলেন, দরজা প্রায় ৯মাস আগে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। সেদিন আমরা দুপুরে অন্য বাড়িতে দাওয়াতে গিয়েছিলাম। সে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে জানতে পারলাম প্রধান শিক্ষক হারুন স্যার দরজা ভ্যানগাড়িতে করে কোথাও নিয়ে গেছেন। তারা শুনেছেন, প্রধান শিক্ষক নিজের দু তলা বাস ভবনে নিচে দরজা লাগিয়েছেন।

বে পেস্কারগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ বিদ্যালয়ের দরজা নিজের ভবনে লাগিয়েছেন স্বীকার করে বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের দরজা ফ্রি নেননি দরজা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে আলোচনা করে ১২শত টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন তবে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান না করেই বিদ্যালয়ের দরজা নিজের ভবনে লাগিয়েছেন এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস আগে বাজারে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় প্রধান শিক্ষক আমাকে বলেছেন ভাঙ্গা দরজাটা নিবেন টাকা দেওয়ার কোন আলোচনা হয়নি। আর আমি দরজা দেখেনি।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, সরকারী বিদ্যালয়ের কোন মালামাল কারো বাসা বাড়ীতে ব্যবহার করার নিয়ম নেই।

নিলাম ছাড়া কেউ বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রিও করতে পারবে না এবং ব্যাবহার করার সুযোগ নেই। তিনি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া/এসএম/আওয়াজবিডি

ads