বেতাগীতে পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় মুচলেকায় সমাধান


বরগুনা

বরগুনার বেতাগীতে ছালেহিলা আলিম মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রে রাবেয়া বস্রী নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থীর ওড়না টেনে খুলে শ্লীলতাহানির ঘটনায় মুচলেকার মাধ্যমে সমাধানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইসলামের ইতিহাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকালে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশের সময় ওই মাদরাসার দাখিল পরীক্ষার্থী মো. সিয়াম হোসেন ওই ছাত্রীকে ওড়না ধরে টেনে খুলে ফেলেলে রাবেয়া বস্রী তাৎক্ষণিক কেন্দ্র সচিব আবদুল মোতালেবের কাছে অভিযোগ জানায়।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে কেন্দ্র সচিব অভিযুক্ত ছাত্র সিয়ামকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে নিয়ে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাজীব আহসান বখাটে সিয়ামের কাছ থেকে নামমাত্র মুচলেকা নিয়ে বিষয়টি নিস্পত্তি করেন। এতে রাবেয়া বস্রীর পরিবার বখাটে সিয়ামের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উত্ত্যক্তের ঘটনায় শিকার হওয়া ওই পরীক্ষার্থীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরু থেকেই সিয়াম তাকে যাওয়া-আসার পথে বিভিন্নভাবে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে এসেছে।
শুরু থেকে এ বিষয় নিয়ে কোন কথা না বললেও পরিস্থিতি যখন জটিল আকার ধারন করে তখন মুখ খুলতে বাধ্য হয় ওই পরীক্ষার্থী।

উত্তক্তের শিকার হওয়া রাবেয়া বস্রী জানায়, প্রতিটি পরীক্ষার শেষে সিয়াম তাকে বিভিন্নভাবে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ইতিহাস পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা বাড়ি যাওয়ার সময় তাদের গায়ে সিয়াম মুখের পানি ছুঁড়ে ফেলে। গত পরীক্ষার শেষে এ ধরণের ঘটনার পরে আমি বাসায় যেয়ে মাকে ঘটনার বিবরণ দেই।

কেন্দ্র সচিব ও ছালেহীয়া মাদ্রাসার অধক্ষ্য আব্দুল মোতালেব বলেন, শ্লীলতাহানির কোন ঘটনা ঘটেনি। সিড়ি দিয়ে ওঠার সময় পা পিছলে গিয়ে ধাক্কা খেয়েছে। মুচলেকা নিয়ে ছেলেটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. রাজীব আহসান বলেন, অভিযুক্ত ছাত্র সিয়াম দাখিল পরীক্ষার্থী ও শিশু হওয়ায় মানববিক বিবেচনায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ওই ছাত্রকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।

এইচ এম কাওসার মাদবর/এসএম/আওয়াজবিডি

ads