যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ প্রেমিকের গুলিতে বাংলাদেশি তরুণী নিহত

অনলাইন ডেস্ক
আওয়াজবিডি, নিউইয়র্ক থেকে
২৯ জানুয়ারী ২০২০, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
৩৪৬৩
সিনথিয়া কস্তা
সিনথিয়া কস্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কৃষাঙ্গ যুবকের গুলিতে বাংলাদেশি তরুণী নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার এই ঘটনা ঘটে। সিনথিয়া কস্তা(২২) নামের এই তরুণী তার কৃষাঙ্গ প্রেমিক ডেরিক ম্যান এর সাথে দেখা করতে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

গত শুক্রবার ইন্ডিয়ানা পুলিশ ফোন করে সিনথিয়ার বাবা এন্ড্রু ডি’কস্তাকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। সিনথিয়া তার বাবা এন্ড্রু ডি’কস্তা ও মা সিসিলিয়া কস্তা মেরিল্যান্ডের সিলভার স্প্রিং শহরে নিজ বাড়িতে বসবাস করতো। এই ঘটনা মেট্রো ওয়াশিংটনের বাঙালি সত্যের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঘটনার পর নিহতের বাড়িতে কমিউনিটির মানুষ ছুটে আসে। সিনথিয়াকে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার মা কিছুক্ষণ পর পর কান্না করে মেয়ের কথা বলছে সবাইকে। সিনথিয়ার নানী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তার বাবা অঝোরে কেঁদে চলেছে মেয়ে হারানো বেদনায়। স্থানীয় নার্স মিলিতা মন্ডল ও প্রভাতী সিসিলিয়া রোজারিও বার বার ব্লাড প্রেসার চেক করছে।

নিহতের মা সিসিলিয়া জানায়, সিনথিয়া চাকরি সুবাদে ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি সম্মেলনে গেলে ডেরিক নামের এক কৃষাঙ্গ যুবকের দেখা হয়। প্রথম দেখতে ডেরিক সিনথিয়া ভালো লাগলে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সিনথিয়া বিষয়টি নিয়ে মা বাবার সাথে আলাপ করে। তারা যুবকে দেখতে চাইলে সে ওই যুবককে বাসায় নিয়ে পরিচয় করিয়ে দেয়। সেনাবাহিনীতে কর্মরত সুঠাম দেহের ডেরিকের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে না চাইলে সিনথিয়া নিজের তাগিদে ওই যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। যুবক ভার্জিনিয়ায় থাকতে সিনথিয়া প্রায় যুবকের বাড়ি চলে যেত। এক সময় যুবকের সাথে খুনসুটি দেখা দিলে সিনথিয়া ছয় মাস পূর্বে মা বাবার কাছে চলে আসে। মা কারণ জানতে চাইলে সিনথিয়া জানায়, ওই যুবক সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিয়েছে এবং তাকে ইন্ডিয়ানা নিজ বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু সে আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে মেরিল্যান্ড ছাড়তে চায় না। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যের কারণে সে চলে আসে ছয় মাস পূর্বে।

গত ১৩ জানুয়ারি সিনথিয়া নিজে ড্রাইভ করে ইন্ডিয়ানা যুবকের সাথে দেখা করতে যায় মা বাবার বাধা উপেক্ষা করে। সিনথিয়া ইন্ডিয়া থেকে তার মার্ সাথে প্রতিদিন টেলিফোনে বলতো সব ঠিক আছে। গত শুক্রবার বিকেলে ইন্ডিয়ানা পুলিশ সিনথিয়ার বাবাকে বলে, তার মেয়ে গুলিতে নিহত হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে যুবককে গ্রেফাতর করেছে। প্রথমে ঘটনা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে চেয়েছিলো। পরে ময়না তদন্তে দেখা গেছে তাকে পিছন থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আত্মহত্যা করলে পিছন থেকে কিভাবে গুলি করা সম্ভব? পুলিশ সন্দহভাজন যুবককে জেরা করলে সে খুঁজের কথা স্বীকার করে। মৃহদেহ এখনো ইনিডিয়ানা মর্গে রয়েছে।

এই ঘটনায় ওয়াশিংটন বাঙালি পাড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অনেক অভিভাবক নিজ সন্তানদের কথা চিন্তা করে আতংকে আছে। এই ঘটনায় স্থানীয় ভিবিন্ন পেশার মানুষ মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং এই হত্যাকারীর শাস্তি দাবি করেন।সিথিয়ার গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানায়।


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ