ফুটবল ছেড়ে দিলেন নেতো

ফুটবল ছেড়ে দিলেন তিনি

মাত্র তিন বছর আগের কথা। মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখেছিলেন তিনি। সঙ্গে থাকা ৭১জন মানুষের সলিল সমাধি ঘটলো। বেঁচে গিয়েছিলেন তিনিসহ মোট ছয়জন।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার নেতো এরপর দুই বছর পূনর্বাসন কেন্দ্রে ছিলেন। চেষ্টা করে গেছেন মাঠে ফেরার। কিন্তু ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সেই দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছেন না আর।

যে কারণে, শেষ পর্যন্ত মাঠে ফেরার ইচ্ছাটাই বাদ দিয়ে দিলেন। বিদায় বলে দিলেন ফুটবলকে।

নেতো, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ক্লাব শাপোকোয়েন্সের ফুটবলার। ২০১৬ সালে তাকেসহ পুরো শাপোকোন্স ফুটবল কলম্বিয়া যাচ্ছিল কোপা সুদামেরিকানার ফাইনালের প্রথম লেগ খেলতে। কিন্তু তাদের বহনকারী বিমান কলম্বিয়ার সীমানায় পৌঁছার পরই আছড়ে পড়ে মাটিতে।

ভয়ঙ্কর সেই দুর্ঘটনার পর ফুটবলার, কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ বিমানে থাকা ৭১ জনের সলিল সমাধি ঘটে। তবে তিন ফুটবলারসহ সৌভাগ্যবান ছয়জন মৃত্যুকে জয় করে ফিরে আসেন স্বাভাবিক জীবনে।

সেই ছয়জনের একজন নেতো। দু’বছর রিহ্যাবের মধ্যে থেকে মাঠে ফেরার জন্য নিজেকে উপযুক্ত করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করে যান নেতো; কিন্তু অবশেষে আর ফেরা হলো না তার। নিয়েই নিলেন কঠিন সিদ্ধান্তটা।

টানা দুই বছর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পর গত মার্চে ফিরেছেন মাঠে। কঠোর অনুশীলন চালিয়ে গেছেন মাঠে ফেরার জন্য। কিন্তু পায়ের ব্যাথাটা তাকে বেশ ভোগাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক পরামর্শ দিলেন ফুটবলই ছেড়ে দিতে। সে মতেই ফুটবল ক্যারিয়ারে ইতি টানলেন তিনি।

বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু মুখ থেকে ফিরে আসা নেতোর সতীর্থ গোলরক্ষক জ্যাকসন ফোলম্যান ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন আগেই। এবার তার পদাঙ্কই অনুসরণ করতে বাধ্য হলেন নেতো। তবে আরেক জীবিত ফুটবলার অ্যালান রুসচেল খেলছেন প্রথম বিভাগের একটি ক্লাবে।

ব্রাজিলের একটি স্পোর্টস সংবাদমাধ্যমকে নেতো জানিয়েছেন, আমি ক্যারিয়ারে ইতি টানছি। চিকিৎসকদের পরামর্শমতোই সবকিছু হচ্ছে।

নেতোর কথায় তিনি একটি ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন ক্লাবের হয়ে; কিন্তু সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। ‘৪ ডিসেম্বর সিএসএ’র বিরুদ্ধে ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলার জন্য আমাকে আমন্ত্রণও জানিয়েছিল ক্লাব; কিন্তু আমি পারিনি।

এ প্রসঙ্গে নেতো জানান, ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়ার পর আপাতত আমি সুস্থ। স্বাভাবিক জীবন-যাপনে আমার শরীরে তেমন কোনও যন্ত্রণাও নেই; কিন্তু বেশি সময় অনুশীলনের ধকল শরীর নিতে পারে না। হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব হয় এবং পিঠের ব্যথা আমাকে কাবু করে তোলে। কখনও কখনও যন্ত্রণা হয়তো আনন্দের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দেয়। সে কারণেই আমার খেলা ছাড়ার সিদ্ধান্ত।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ফুটবলার ও অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেবারের কোপা সুদামেরিকানা ট্রফি শাপেকোয়েন্স ফুটবল ক্লাবকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://www.awaazbd.com/author/awaazbdonlinenews

অনলাইন ডেস্ক

mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ