৪ প্রতিবন্ধী বোনের জীবন চলে খেয়ে না খেয়ে

৪ প্রতিবন্ধী বোনের জীবন চলে খেয়ে না খেয়ে

মিনারা পারভিন (৩০), বিউটি আক্তার (২০), তাপসী (১৫) ও শাবনূর (১১) তারা ৪ বোন। সবাই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাদের হাত পা চিকন হয়ে অবশ হয়ে গেছে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তারা চলাফেরা পর্যন্ত করতে পারে না। পিতা দিনমজুর ইব্রাহিম (৭০), মা শামছুন্নাহার গৃহিণী। বাড়ি ভিটার ৮ শতাংশ জমি ছাড়া আর কিছুই নেই দিনমজুর ইব্রাহিমের।

দিনমজুর পিতার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই গ্রামের চৌরঙ্গি পাড়ায়।

এলাকাবাসী ও অসহায় পরিবার জানায়, দিনমজুর ইব্রাহিম ও শামছুন্নাহারে ঘরে ৩০ বছর আগে মিনারা পারভিন নামে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কন্যা সন্তানের যখন বসার সময় সময় তখন তারা লক্ষ্য করে তাদের ফুটফুটে কন্যা সন্তানের হাত পা চিকন হয়ে অবশ হয়ে যাচ্ছে। সংসারে দারিদ্রতা থাকলেও কন্যা সন্তানের চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব ঢেলে দেন। বয়স যত বাড়তে থাকে ততই অবস্থার অবনতি হতে থাকে এক সময় সে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে। এর পর জন্ম নেয়া বিউটি আক্তার (২০), তাপসী (১৫) ও শাবনূর (১০) একইভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ঘরের বারান্দায় প্রতিবন্ধী মেয়েরা বসে আছে। সারা দিন কাটে তাদের ঐ বারান্দায়ই। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া থেকে শুরু করে সব কাজ করতে হয় মাকে।

৩০ বছর ধরে বারান্দায় কাটানো বড় মেয়ে প্রতিবন্ধী মিনারা পারভিন বলেন, আমরা ৪ বোন এক সাথে বারান্দায় বসে থাকি। কারও সাহায্য ছাড়া আমরা চলাফেরা করতে পারি না। আব্বা আম্মা এত দিন করেছেন। তাদেরও বয়স হয়েছে। আগের মত শক্তিই তাদের শরীরে নেই। আব্বা আম্মা মারা গেলে আমাদেরকে কে দেখে রাখবে বলেই চোখের জল মাটিতে পড়ে যায়।

প্রতিবন্ধী মেয়ে বিউটি আকতার বলেন, ২০ বছর ধরে আমার দিন কাটে বারান্দাতেই। দিনকে মনে হয় কত লম্বা। চিন্তা করি রাত কখন হবে। রাত হলে ভাবি দিনের আলো কখন আসবে। প্রতিবন্ধী বোন তাপসী (১৫) ও শাবনুর (১১) দুই বড় বোনের কথা শোনে অসহায়ভাবে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে তারা।

মা শামছুন্নাহার বলেন, ৪ প্রতিবন্ধী মেয়ে রেখে কোথাও কাজ করার জন্য যেতে পারি না। স্বামীর উপার্জন ও সরকারি ভাতার টাকায় তাদের জীবন চলে খেয়ে না খেয়ে।

পাশের বাড়ির আইয়ুব আলী জানান, জন্মের পর থেকেই ৪ বোন প্রতিবন্ধী। তাদের দেখলে আমারেও মায়া লাগে। আমরাও গরিব তাদেরকে কোন সহযোগিতা করতে পারি না।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নাজমুল হোসেন বলেন, ৪ প্রতিবন্ধীর জন্য ৩টি প্রতিবন্ধী কার্ড দেয়া হয়েছে।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফ সিদ্দিক বলেন, আমি ৪ প্রতিবন্ধীর বাড়িতে যাব। তারা ৩টি প্রতিবন্ধী কার্ডের সুবিধা পায়। তাদেরকে আরও কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়টি নিয়েও খোঁজখবর নেয়ার আশ্বাস দেন।


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://www.awaazbd.com/author/oeazq8
mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ