গণহারে ফেল ঢাবির অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা, সংশোধনের নামে টালবাহানা

১২৬৬
ঢাবির অধিভুক্ত সাত কলেজ

অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই ডিগ্রীর সেশনগুলো আছে মহাবিপদে। ঢাকা কলেজ ছাড়া বাকি ৬ কলেজে ডিগ্রীর কার্যক্রম চলছে। এই ৬ কলেজের ডিগ্রীর শিক্ষার্থীদের সেশনজট সমস্যা গুলো দিন দিন বিরাট আকার ধারণ করছে। এছাড়া ২০১৬-১৭ সেশনের পর থেকে ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের থাকছে না আর কোন ডিগ্রীর সেশন। বর্তমানে ৩টি সেশনের কার্যক্রম চলছে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা রাজধানীর সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেশনজট এবং চাপ কমাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও উল্টো তা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাবি। ঢাবির সাত কলেজের বিভিন্ন সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের বর্তমান সমস্যা সমূহ-ডিগ্রী, অনার্স, মাস্টার্স সকল সেশনের গণহারে ফেল।সকল সেশনের এখনো ক্রাশ পোগ্রাম চালু নেই। ডিগ্রি ২০১২-১৩ শেসনের ৩য় বর্ষের শতকরা ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে গনহারে ফেল এবং রেজাল্ট সংশোধনে চার মাস পার হওয়ার পর ও টালবাহানা। ডিগ্রি ৩য় বর্ষের এই সেশনটি সব চেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। সেশনটি ২য় বর্ষে অতিবাহিত করেছে প্রায় ২৪ মাস।

৭ কলেজের একটা বর্ষের বিভিন্ন বিষয়ের ফলাফল পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফলাফল এক সাথে প্রকাশ করে। ঢাবির সাত কলেজের কোন তথ্য কোথাও গেলে পাওয়া যায় না। কলেজে গেলে বলে ঢাবি জানে, আর ঢাবি তে গেলে বলে তোমাদের কলেজ জানে। এই অবস্থায় ৭ কলেজের ছাত্রছাত্রী রা খুব খারাপ অব্সথায় আছে, সেশন জট, পরীক্ষা না দিতে পারা, ফলাফল না পাওয়া, সব কিছু মিলে এক বড় হতাশার মধ্যে আছে।

সাত কলেজের সঙ্গে জড়িত থাকা লাখ লাখ শিক্ষার্থী সংকটে পড়েছে শিক্ষাজীবন সমাপ্তি নিয়ে। বছরের পর বছর সেশনজটে তাদের আটকে থাকতে হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রির জন্য। এদিকে সরকারি চাকরির বয়স শেষ পর্যায়ে এলেও অনেকের শেষ হয় না স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের লেখাপড়া। সব মিলিয়ে বিশাল সংকটের মধ্যে রয়েছে ঢাবির অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থী এবং ঢাবি প্রশাসন।

রাজধানীর সাত কলেজের দুই লাখ ত্রিশ হাজার শিক্ষার্থী সেশনজটের কারণে লেখাপড়া সমাপ্ত করতে পারছে না। এক বছরের পরীক্ষা আরেক বছরে হওয়ায় মাঝখান থেকে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।

অন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে পড়ালেখার পাট চুকিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে সেশনজট এবং সময়ক্ষেপণের কারণে ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীর সুন্দর ভবিষ্যৎ।

কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী এমদাদুল চৌধুরী জানায়, ডিগ্রি পুরাতন সিলেবাসের ২০১২-১৩ সেশনের তয় বর্ষের ফলাফলে ভূলে ভরা ও শতকরা ৮০-৮৫ শিক্ষার্থীকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ফেল করানো। তিনি আরো জানান, এমনিতেই ৩ বছর পিছিয়ে তার পর আবার সেশনজট।

ঢাবি অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সালে আহমেদ জানান, ঢাবিতে অধিভুক্ত হওয়া আমাদের জন্য শুভকর কিন্তু এমন শুভকর পরিস্থিতি আমরা চাই না। আমাদের সঠিক সময়ে পরীক্ষা না নেয়া, ফলাফলের দীর্ঘসুত্রিতা, ফলাফলে ভূলে ভরা, ইচ্ছাকৃত শতকরা ৮৫-৯০% শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য দেখানো এটা মোটে ও কাম্য নয়। এমনিতে আমাদের শিক্ষা জীবন থেকে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তারপর আবার এই অশুভ বার্তা। সরকারে উচিত অধিভুক্ত কলেজগুলোর একটা সুষ্ঠ সমাধান প্রদান করা। অন্যথায় লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর জীবন হুমকির মুখে পড়বে।

তাই অতিদ্রুত ঢাবি অধিভুক্ত এই সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সেশনজট শূন্যের কোটায় নামিয়ে এনে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ঢাবি প্রশাসন, সাত কলেজ পরিচালনায় নিযুক্ত কর্তৃপক্ষ সর্বোপরি সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী এগিয়ে আসবেন, এমনটাই সবার প্রত্যাশা।


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ