/ins>

সিলেট দখলের গোপন মিশনে ভারত!

বিশেষ সংবাদদাতা

২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে সিলেট সহ বাংলাদেশের একটি অংশ দখলের হুমকী দিয়েছিলেন ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারী দল বিজেপি নেতা সুব্রাহ্মণিয়াম স্বামী। তিনি ‘বাংলাদেশের ভুখন্ডের এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে দেয়ার’ দাবি জানিয়েছিলেন। তার প্রস্তাব ছিল ‘খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত সমান্তরাল রেখা টেনে এ জমি ভারতের হাতে ফেরত দিতে হবে বাংলাদেশকে।’ ভারতীয় নেতার এ বক্তব্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তবে সেটাকে তখন কেউ গুরুত্ব না দিলেও সম্প্রতি সিলেট দখলের গোপন মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে ভারত। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে ব্যবহার করে ভারত তাদের মিশন বাস্থবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী বিশাল দিঘী হচ্ছে ধোপাদিঘী। আর নান্দনিক সৌন্দর্য্য সৃষ্ঠির নামে সেখানে বিশাল স্থাপনার উদ্যোগ নিচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। আর সেখানে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করতে যাচ্ছে ভারত। এর এই অর্থায়নকে অনেকেই সিলেট দখলের মিশন হিসেবে দেখছে সচেতন মহল।
জানা যায়, নগরীর বন্দরবাজার পেরিয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশেই অবস্থিত সিলেটর প্রাচীনতম বৃহৎ দিঘী ধোপাদিঘী। সেখানে নতুন স্থাপনা ও দৃষ্ঠিনন্দন এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে সিসিক কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, ‘ধোপাদিঘীর আকার ছোট হবে না, দীঘি দীঘির মতোই থাকবে, বরং নোংরা পুতি দুর্গন্ধময় পরিত্যক্ত এই দীঘিকে নান্দনিক সৌন্দর্য্যে রূপ দেওয়ার জন্যই বর্তমানে সৌন্দয্যবর্ধন কাজ চলছে। দীঘির আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে বরং দীঘির আকার আরও বাড়বে।’-এমনটাই জানিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখা।
সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে সিলেট মহানগরীর ধোপাদিঘীরপাড়ে অবস্থিত ধোপাদিঘীতে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। ভারতীয় সরকারের অনুদানে বাস্থবায়িত এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ২১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৫শ টাকা।
এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে দীঘির খননকাজ শুর হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দীঘির চারদিকে ওয়াকওয়ে নির্মান করা হবে, বসার জন্য থাকবে বেঞ্চ, শিশুদের জন্য রাইডের জায়গা থাকবে, পুকুরে নামার জন্য থাকবে দুটি দৃষ্টিনন্দন ঘাট, পুকুরের নোংরা পানিকে পরিস্কার করা হবে এবং সেই সাথে পুকুরের মধ্যে ঘোরার জন্য থাকবে প্যাডেল বোট, বৃক্ষপ্রেমীদের পরামর্শে সুদৃশ্যভাবে লাগানো হবে সবুজ বৃক্ষ, পুকুরের মধ্যখানে থাকবে নৌকার আদলে ভাসমান রেস্তোরা। এখানে থাকবে একাধিক টয়লেট।
ঐ সূত্র জানায়, এসব টয়লেট ও বর্জ্যের ব্যবস্থাপনার জন্য থাকবে আলাদা পাইপলাইন, যা পুকুরের পানির সাথে সংযোগ থাকবে না। সবার জন্য উন্মুক্ত এই জায়গাটির প্রবেশপথ থাকবে সিটি কর্পোরেশনের মসজিদের উত্তরপাশ দিয়ে এবং মহানগরবাসী সকাল-বিকেল ও সন্ধ্যায় যাতে এখানে এসে হাঁটতে পারেন সেজন্য রাতের বেলা আলোকিতকরণসহ সংশ্লিষ্ট সকল সুবিধা রাখা হবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখা জানায়, বর্তমানে ধোপাদিঘীটির আকার অনেক বড় থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে আশেপাশের দোকানপাট গড়ে তোলার মাধ্যমে অনেকে এই দীঘির জায়গাও অবৈধভাবে দখল করে আছেন। এই প্রকল্পের আওতায় এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে দীঘির পুরাতন অবয়বে ফিরে আনা হচ্ছে।
সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, ভারতীয় সরকার যে তিনটি প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধোপাদিঘীরপাড় প্রকল্প। পরিবেশের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েই সকল মন্ত্রনালয়ের যাচাই বাছাই করে এই প্রকল্প অনুমোদন করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই এলাকার চেহারার আমূল পরিবর্তন হবে। নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় ব্যয় করার জন্য এই স্থানটি মহানগরবাসীর জন্য একটি আদর্শ জায়গা হয়ে উঠবে।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমার একটি স্বপ্ন ছিল সিলেট মহানগরবাসীর হাঁটাচলার জন্য একটি নির্মল পরিবেশময় স্থান গড়ে তোলা, যেখানে নগরবাসী কিছুটা সময় নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে উপভোগ করবেন। ধোপাদিঘীকে কেন্দ্র করে এই রকম একটি আবহ তৈরী করা হচ্ছে।’
মেয়র আরিফ আরও বলেন, আমি বিনয়ের সাথে সবাইকে আহবান জানাচ্ছি, যে কেউ বর্তমান দীঘিটির করুন চিত্র গিয়ে দেখে আসতে পারেন। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে দীঘিটির পানি নোংরা হয়ে গেছে, চারিদিকে ময়লা আবর্জনার জঞ্জাল যা মশা তৈরীসহ পরিবেশ দূষনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীঘির সাথে আশেপাশের বিভিন্ন দোকানপাটের টয়লেটের সরাসরি সংযোগ দেওয়ার কারণে দূষন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বাস্থবায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে এসব অপসারণ করা হবে, অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্থবায়িত হলে পরিত্যক্ত এই দীঘিটির পুনরুজ্জীবন হবে বলেই মনে করেন মেয়র আরিফ।
দীঘির আকার কমবে না, বরং বাড়বে এই প্রসঙ্গে মেয়র সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমানে দীঘিটির মধ্যে পানির চারিধার আছে ৩.৪১ একর। দীঘির দখলকৃত জায়গা উদ্ধারের পর প্রকল্প বাস্থবায়নের মাধ্যমে দীঘির পানির চারিধার বৃদ্ধি পেয়ে কমপক্ষে ৩.৭৫ একরে উন্নীত হবে।’

ধোপাদিঘীতে স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন:
সিলেটের হাতেগোনা প্রাকৃতিক জলাধারের অন্যতম ধোপাদিঘী। ধোপাদিঘীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও দিঘীর মধ্যবর্তী জায়গা ভরাট করে রাস্তাসহ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে সিলেটে পরিবেশবাদীদের উদ্যোগে ‘নাগরিকবন্ধন’ কর্মসুচি পালন করা হয়েছে ।
সোমবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সম্মুখে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সিলেট শাখা এই নাগরিকবন্ধন কর্মসুচির আয়োজন করে।
বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও পরিবেশবাদীদের অংশগ্রহনে ঘন্টাব্যাপী চলা এ কর্মসুচিতে নাগরিক প্রতিনিধিরা সংহতি বক্তব্য রাখেন। বাপা সিলেট শাখার সহ-সভাপতি এডভোকেট এমাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন-এর সভাপতিত্বে ও গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের মুখপাত্র দেবাশিষ দেবু’র সঞ্চালনায় কর্মসুচির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম ।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আশরাফুল কবির, সমাজকর্মী ডা. নাজরা চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বদর ও আফম সাঈদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও উর্বশীর সভাপতি মোকাদ্দেস বাবুল, নাগরিক মৈত্রী সিলেটের আহ্বায়ক সমরবিজয় সি শেখর, নাগরিক সংগঠক এডভোকেট গোলাম সোবহান চৌধুরী দিপন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-সিলেট এর বিভাগীয় সমন্বয়কারী এডভোকেট শাহ শাহেদা আখতার, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক ছামির মাহমুদ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক প্রণবকান্তি দেব, সারি বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল হাই আল হাদী, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মোহাইমিন চৌধুরী সংস্কৃতিক সংগঠন শতভিষা’র মুখ্য নির্বাহী রীমা দাস, ওয়েমেন ওয়ার্ডস-এর সম্পাদক অদিতি দাস, নারী সংগঠক বর্ণা ব্যানার্জি, লিটল ম্যাগাজিন মেঠোসুর সম্পাদক বিমান তালুকদার, বাপা সংগঠক সুপ্রজিত তালুকদার, সিলেট ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি রেদোয়ান আহমদ, ইয়াং বাংলার কো-অর্ডিনেটর আলি হাসান রুমেল, তরুণ সংগঠক নাবিদ হাসান ও অরুপ রায় প্রমুখ ।
নাগরিক বন্ধনে বক্তারা বলেন, পুকুর ও দিঘীর নগরী খ্যাত সিলেটের হাতেগোনা প্রাকৃতিক জলাধারের অন্যতম ধোপাদিঘী। ধোপাদিঘীর পার্শ্ববর্তি স্থানেই সিলেট জেলা কারাগার। ধোপাদিঘী ও দিঘীর পার্শ্ববর্তি সিলেট জেলা কারাগারের স্থানে একটি উন্মুক্ত পার্ক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ২০০৮-এর সংসদ নির্বাচনকালে নিজের নির্বাচনী ইশতেহারে এই পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ছিল। যা নগরীর ফুসফুস হিসাবে কাজ করবে বলে তিনি একাধিকবার উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনের পর সরকারের অর্থমন্ত্রী হয়ে জেলা কারাগারের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারন করা হয়। সে জায়গাতে আধুনিক কারাগার ভবন নির্মাণের কাজ শুরুও হয় কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকারের দুই মেয়াদেও কারাগার স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। জেলা কারাগারের পরিত্যাক্ত জায়গায় উন্মুক্ত পার্ক স্থাপনের জন্য যেখানে ধোপাদিঘীকে দখলদারদের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করা উচিত ছিল, সেখানে দিঘী গত দশ বছরে আরও সঙ্কুচিত হয়েছে । দিঘীর জায়গায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের লীজকৃত ‘ওসমানী শিশু পার্ক’ নামের রুচিহীন স্থাপনা উন্মুক্ত পার্ক ও জলাধারের স্বপ্নকে পরিহাস করে ।
এ অবস্থায় দিঘীর অভ্যন্তর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ ও দখলদারদের উচ্ছেদ না করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ শুরু করায় দিঘীর ভবিষ্যত নিয়ে আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা তিন দিনের মধ্যে দিঘীর চারপাশে ওয়াকয়ে নির্মাণ ও দিঘীর অভ্যন্তরে মাটি ভরাট কাজ বন্ধের দাবি জানান।
সিলেট দখলের ভারত মিশন:
এদিকে ধোপাদিঘীর উপর ভারতীয় অর্থায়নে স্থাপনা নির্মাণকে ভালো চোখে দেখছেন না সচেতন সিলেটবাসী। অনেকেই মনে করেন- সিলেটে নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপনা নির্মাণ করে সিলেটে তাদের শক্ত ঘাটিঁ করতে চায় ভারত। কারণ সারাদেশে অন্য কোথাও এমন স্থাপনার উদ্যোগ না নিয়ে সিলেটকে কেন বেছে নিলে ভারত। এ নিয়ে সন্দেহ অনেকের। আজ পর্যন্ত ভারত তাদের স্বার্থ ব্যাতিত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি ভারত। তবে সিলেটের ব্যাপারে কেন তারা এতবেশী আগ্রহী এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। একটি সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাসীন সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বাসভবনের বিপরীত পাশে এই স্থাপনা নির্মাণ করতে সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর মেয়র আরিফ আগামী নির্বাচনের নিজের উন্নয়নের ঝুড়িতে নতুন রেকর্ড যোগ করতে এই স্থাপনা নির্মানে অগ্রনী ভুমিকা পালন করছেন। তবে মেয়র আরিফের এই কর্মকান্ড ভাল চোখে দেখছেনা সিলেটের সচেতন মহল। এমনকি এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মেয়রে নিজ দলের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা বলেন- মেয়র আরিফ উন্নয়নের ক্রেডিট নিতে ভারতকে সিলেটে নিয়ে আসছেন। এই স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সিলেটে ভারতীয় বিভিন্ন বাহিনীর আনাঘোনা বৃদ্ধি পাবে। পর্যায়ক্রমে ভারত এখানে তাদের কনস্যুলেট অফিস ব্যবহারের সুযোগ নিতে পারে এই সন্দেহ অনেকের। আর এখানে কন্স্যুলেট অফিন হলে ভারতীয় বাহিনী অবাধে সিলেটে যাতায়াত করবে। যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকী বলে মনে করেন অনেকেই।
সিলেট তথা বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য:
কিছুদিন আগে বাংলাদেশ নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন আসামের বিজেপিদলীয় বিধায়ক শিলাদিত্য দেব। বিজেপির ওই বিধায়ক দাবি করেছিলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের সহযোগিতা করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলেই আসামে ‘মুসমিল অনুপ্রবেশ’ শুরু হয়।” খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
শিলাদিত্য আরো দাবি করেছিলেন, ‘ভারতের উচিত ছিল স্বাধীনতার পরই বাংলাদেশকে তাদের সঙ্গে যুক্ত করে নেয়া।’ গত ১৯ মার্চ স্থানীয় একটি পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শীলাদিত্য বলেন, ‘তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীনতায় সাহায্য করার পর তাকে ভারতের সঙ্গে একত্র না করে ইন্দিরা গান্ধী এবং পরে কংগ্রেস- উভয়ই ভুল করেছে। এমনকি খোদ বাংলাদেশ সৃষ্টি করাই একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।’ অবশ্য বাংলাদেশকে দখল করে ভারতের অংশ ঘোষণা দিয়ে এখনো ওই ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন শীলাদিত্য।
এর আগে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র নেতা সুব্রমানিয়ন স্বামীও সিলেট দখলের হুমকি দিয়েছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে ভারতের আসাম প্রদেশে বাঙালি বিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর সেসময় ব্যাপকভাবে বাংলাদেশ বিরোধী ঘৃণামূলক বক্তব্য শোনা গিয়েছিল। কিছুদিন আগে ভারতের সেনাপ্রধানও পাকিস্তানের সহায়তায় ভারতে লোক অনুপ্রবেশ করাচ্ছে বাংলাদেশ বলে অভিযোগ করেন।
সব মিলিয়ে এটা প্রতীয়মান হয় যে, ভারত সরকার কর্তৃক সিলেটে ২২ কোটি টাকার অর্থায়নে স্থাপনা নির্মাণ সিলেট তথা বাংলাদেশের জন্য একটি খারাপ নজির সৃষ্ঠি হবে। আর ভারত সিলেটে উড়ে এসে জুড়ে বসার চেষ্ঠা করবে। বিষয়টি অনুধাবন করেও অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চান না। সম্প্রতি সিলেট সফরে এসে বাংলাদেশের প্রখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছিলেন- বাংলাদেশের সকল গুমের সাথে ভারত জড়িত। তিনি এ ও বলেছিলেন- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র’ সহ বিভিন্ন বাহিনী ঢুকে পড়েছে। এদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ থেকে বুঝা যায়, ভারত বিশাল প্ল্যান নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে এবং সিলেটে তাদের শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ধোপাদিঘী স্থাপনায় অর্থায়ন করছে।

/ins>
Comments With Facebook