/ins>

রাশিয়া বিশ্বকাপে কে সেরা?

স্পোর্টস ডেস্ক

ব্যালন ডি’ওর খেতাবের লড়াই এ বার হয়তো শুধু লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। লড়াই হবে ত্রিমুখী! এবার ওই খেতাবে ভাগ বসাতে পারেন বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান দুই মিশরের মোহম্মদ সালাহও। গত এক দশকে পাঁচ বার করে ব্যালন ডি’ও জিতেছেন মেসি ও রোনালদো। কিন্তু সালাহের অবিশ্বাস্য উত্থান পুরো প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে। চলতি মৌসুমে ৪৩ গোল করে ইতিমধ্যেই তিনি পিছনে ফেলে দিয়েছেন মেসিকে। তাঁর সামনে এখন শুধু রোনালদো। তবে এবার আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে সেরা তালিকায় কে বিশ্বসেরা হবেন সেটা নিয়েও কম আরোচনা হচ্ছে না ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে। আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল কিন্বা মিশর চ্যাম্পিয়ন হবে কিনা সে এবার ফিফা বিশ্বকাপে সেটা নিয়ে কারো মাথা ভ্যাথা নেই। তবে চমকের পর চমক হয়তো দেখাতে মরিয়া থাকবেন সালাহ-মেসি-সি আর সেভেন রোনালদো এতে কোন সন্দেহ নেই। এ তিন সুপার স্টারের আছে কোটি সার্পোটার ব্যাংক। এবার যে ভেন্যুতেই এ তিন মহা তারকার খেলা থাকুক না কেন গ্যালারী থাতবে কানায় কানায় ভরপুর।

মঙ্গলবার রাতে অ্যানফিল্ডে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম পর্বে এ এস রোমার বিরুদ্ধে সালাহ-র নেতৃত্বেই ঝড় তুলেছিল লিভারপুল। ভক্তরা তাঁর নামকরণ করেছেন ‘মিশরের মেসি’। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকারের কাছে আবার তিনি ‘মিশরের রাজা’! রোমার বিরুদ্ধে সালাহ-র দু’টো গোলের মধ্যেই আর্জেন্তিনা অধিনায়কের ছায়া। ৩৬ মিনিটে তিনি প্রথম গোল করেন বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে। দ্বিতীয় গোল প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে। রোমা গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার এগিয়ে এসেছিলেন বাধা দিতে। তাঁর মাথার উপর দিয়ে বাঁ পায়ের ছোট্ট টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন সালাহ। সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বসিত লিনেকার টুইট করেছিলেন, আবার শাসন করছে মিশরের রাজা। অবিশ্বাস্য ছন্দে রয়েছে সালাহ। ম্যাচের পরে লিভারপুল ম্যানেজার য়ুর্গেন ক্লপ বলেছেন, সালাহ দুর্ধরষ ফুটবলার।

এই মুহূর্তে যে ও অসাধারণ ছন্দে রয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ক্লপের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, মেসি, রোনাল্ডোর থেকে সালাহকে তিনি এগিয়ে রাখছেন কি না। লিভারপুল ম্যানেজারের জবাব, আপনাদের যদি মনে হয় সালাহ বিশ্বের সেরা, তা হলে সেটাই লিখুন। এর পরেই ক্লপের ব্যাখ্যা, তবে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হওয়ার জন্য কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই ভাল খেলে যেতে হবে। রোমার বিরুদ্ধে লিভারপুলের হয়ে জোড়া গোল করেন রবার্তো ফিরমিনহোও। একটি গোল করেন সাদিও মানে। ৫-২ দুরন্ত জয়ের পরেও কিন্তু স্বস্তিতে নেই ক্লপ। তাঁর আতঙ্কের কারণ, ঘরের মাঠে দু’গোল খেয়েছে লিভারপুল। ৮১ মিনিটে গোল করেন এডেন জেকো। চার মিনিট পরে পেনাল্টি থেকে গোল দিয়েগো পেরোত্তির। কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনাও প্রথম পর্বে রোমাকে ৪-১ চূর্ণ করেছিল।

/ins>

কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে নাটকীয় ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-০ জেতে রোমা। দুই পর্বের ম্যাচ মিলিয়ে ফল ৪-৪ হলেও অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে রোমা শেষ চারে পৌঁছয়। মঙ্গলবার রাতে পেনাল্টি থেকে পেরোত্তির গোলের পরেই যে ভাবে লাফিয়ে উঠেছিলেন রোমা ম্যানেজার ইউসেবিও দি ফ্রান্সিসকো তাতে ক্লপের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। ম্যাচের পরে তিনি বলেছেন, দু’টো গোল খাওয়া একেবারেই কাম্য ছিল না। আমাদের ভুলেই গোলগুলো করেছে ওরা। আমাদের যে ফুটবলার মনে করবে রোমার পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়, তাকে পরের ম্যাচে খেলাবই না। এ দিকে, লিভারপুল বনাম রোমা ম্যাচকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আবহ। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দু’দলের সমর্থকরা। অভিযোগ, রোমার সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হন এক লিভারপুল সমর্থক। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

/ins>

Comments With Facebook