/ins>

রমজান বরণে প্রস্তুত হোন

দয়া, সমৃদ্ধি এবং মুক্তির বার্তা নিয়ে রমজান আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। কাল বা পরশু শুরু হবে মাহে রমজান। ইসলামের পাঁচটি রোকনের মধ্যে সওম চতুর্থ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রোকন বা স্তম্ভ, যা ফরজ করা হয়েছে মুসলমানের জন্য।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যাতে তোমরা পরহেজগারিতা অর্জন করতে পার।’ (সূরা বাকারা : ১৮৩)।

রাসুল (সা:) শাবান মাস থেকেই রমজান মাসের ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। এ মর্মে বেশকিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে। অথচ আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণ ইবাদতের চেয়ে খানাপিনা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বেশি প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।

/ins>

রমজান মাসটি আমরা সুচারুভাবে ব্যবহার করে আমাদের জীবনকে পরিপূর্ণ কল্যাণের পথে ধাবিত করতে পারি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে। ইহকালে এবং পরকালে বহুবিধ কল্যাণ নিয়ে আসা এই মাস যেন বিফলে না বয়ে যায় সেজন্য আমাদের একান্ত কিছু পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন। তাই এই মাসটিকে সফল করার লক্ষ্যে নিম্নে কিছু বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

/ins>

১. পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহমুখী হয়ে রমজান মাসের রোজা পালন এবং একনিষ্ঠ ইবাদতের নিয়ত করা।

২. এই মাসে বেশি বেশি ইবাদতের জন্য সময় বের করার লক্ষ্যে দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে ফেলা। এজন্য যতটুকু সম্ভব রোজা শুরু হওয়ার আগেই দাপ্তরিক কাজসহ প্রত্যেকে তার নিজ পেশা অনুযায়ী কিছু কাজ সেরে রাখা উচিত।

/ins>

রোজার সময় অনেক পরিবারে মহিলাদের কাজ বেশি থাকে। কিছু কাজ তারা রমজান মাস শুরুর আগেই সেরে রাখতে পারেন, যেমন ঘরদোর, অপরিষ্কার বিছানা-কাপড়সহ অন্যন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিতে পারেন, রমজানের বাজার এবং অন্যান্য কেনাকাটা করে রাখতে পারেন। সংরক্ষণ করা যায় এমন কিছু খাবার বানিয়ে রাখতে পারেন, যাতে রোজা অবস্থায় ইবাদতে বেশি সময় দেওয়া যায়।

৩. আগের সব গোনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে তওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে তা থেকে ফিরে আসা। খাস দিলে তওবাকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন। ইচ্ছা এবং অনিচ্ছাকৃত করা সব পাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে এনে তার বদলে বেশি করে নফল ইবাদত করা। কেননা হাদিসে এসেছে, ভুলে কেউ একটি পাপ করে ফেললে সে যেন একটি পুণ্য করে নেয়। বেশি ইবাদত পাপকে মিটিয়ে দেয়।

/ins>

৪. পুরুষরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মসজিদে জামাতে আদায় করা এবং মহিলারা আওয়াল সময় খুজুখুশুর সঙ্গে সালাত পড়া। আমাদের আরও বেশি সচেতন এবং যতœবান হতে হবে সালাতের ব্যাপারে। প্রত্যেকটা রোকন পালন করে ধীরস্থিরতার সঙ্গে সালাত আদায় করা খুবই জরুরি। হাদিসে দ্রুত সালাতকে মোরগের ঠোকর দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এমন সালাতকে তার মুখে ছুড়ে মারা হবেÑ এমন সাবধান বাণীও এসেছে।

৫. রমজান মাস কোরআন অবতীর্ণের মাস। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত, কোরআন শিক্ষা করা, শিক্ষা দেওয়া খুবই মর্যাদাপূর্ণ একটি আমল। কোরআন বুঝে পড়ে আমল করার মর্তবা অপরিসীম। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং বেশ কিছু আয়াত নাজিল করেছেন। আল্লাহ তায়ালার কাছে পবিত্র কোরআনকে আমৃত্যু হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের জীবনযাপন করার তাওফিক চাইতে হবে।

৬. কিয়ামুল লাইল বা তারাবির সালাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। লম্বা সময় পড়তে হয় বলে সময়টিকে অবসর রাখতে আগেই প্রস্তুতি নিন।

৭. কল্যাণকর কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। রমজানের প্রত্যেকটি মুহূর্তকে ফলদায়ক করাতে নিজেকে সচেষ্ট হতে হবে। আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, দ্বীনের দাওয়াতি কাজসহ অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে যাওয়া এবং সর্বক্ষণ জিকিরের মাঝে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।

৮. লাইলাতুল কদর সন্ধানের জন্য প্রস্তুত হওয়া এবং এ জন্য এখন থেকেই দোয়া করা।

৯. ওমরা করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। এই মাসে ওমরা পালন করার কথা হাদিসে এসেছে, যা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত।

১০. রোজা রাখা অবস্থায় সবরকম পাপ থেকে বেঁচে থাকার প্রত্যয় গ্রহণ করা। আমাদের সমাজে কিছু অন্যায় অহরহ করা হয়। অনেকে রোজা অবস্থায়ও এসব থেকে মুক্ত হতে পারে না। বিশেষ করে জিহ্বা দ্বারা সংঘটিত পাপগুলো। যেমনÑ মিথ্যা বলা, অশ্লীল কথা ও ঠাট্টা-বিদ্রপ করা, গালি-অপবাদ দেওয়া, নিন্দা ও চোগলখুরি করা, লোভ, হিংসা, অহংকার, তোষামদ, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বা টিভি, কম্পিউটার মোবাইলে সময় কাটানো। এসব কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে হবে।

উল্লেখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে এবং বাস্তবায়িত করতে পারলে আশা করা যায়, রমজান মাসটিকে আমরা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ। রাসুল (সা:) বলেন, ‘যে রমজান মাস পেল অথচ নিজের গোনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না, সে সব কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।’
তাহলে আসুন আমরা সচেষ্ট হই রমজানের আদব রক্ষা করে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত এবং তওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে গোনাহ মাফ করিয়ে তাঁর নৈকট্য অর্জনে কামিয়াব হতে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

এফবিএন

Comments With Facebook
সর্বশেষ