/ins>

পুলিশ তো অশিক্ষিত,অমানবিক; তাই না ?

এস এম কামরুল হাসান

১৬-০৪-২০১৮ ইং দিবাগত রাত: ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের ট্রেন তুর্না নিশিতার ছ বগির ৩০ নাম্বার সীটের যাত্রী আমি। ট্রেনটি ছাড়ার ঠিক একটু আগে একজন খুব অসুস্থ মানুষ এক পা দুই পা করে ছ বগিতে উঠতে চেষ্টা করছে। কোনমতেই সুবিধা করতে পারছিলেন না , পাশেই দাড়ানো ছিলাম বলে নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিলাম। যাক তিনি উঠে পাশে থাকা তাঁর ছোট মেয়েটাকে নিয়ে দুইজন দুইটি সীটে বসলেন। কমলাপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত মনেহয় একসাথে ছিলেন।

এয়ারপোর্ট আসার পর একজন তরুন এসে বললেন, ছোটবোন এইটা আমার সীট। অসুস্থ বাবার পাশে বসে থাকা মেয়েটি উঠে গিয়ে তাকে বসতে বললেন। ভদ্রলোক যথারীতি বসে পরলেন। কিছুক্ষন পর আমি হাঁটতে গিয়ে দেখি ছোটমানুষটা কি অসহায়ের মতো বসে আছে এসির বাহিরে দরজার পাশে। একটু পর পর তার বাবাকে গ্লাস দিয়ে দেখে আবার গিয়ে বসে। আমি নিজের সীটে এসে বসলাম কিন্তু কোনমতেই বিবেক ক্ষমা করছিলোনা কারণ আমিও কোন এক কন্যার বাবা। এমন যে আমার বেলায় বা আমার মেয়ের বেলায় হবে না,তা বলা মুশকিল । তাই আমি উঠে গিয়ে অসুস্থ বাবাটার পাশে যেই ভদ্রলোক বসেছিলেন তাকে বললাম, আপনি যদি আমার সীটে গিয়ে বসতেন মেয়েটি তার বাবার পাশে বসতে পারতো। ভদ্রলোক সাথে সাথে রাজী হয়ে গেলেন। তিনি আমার সীটে যাওয়ার পর আমি মেয়েটকে বললাম, ছোটবোন আপনি আপনার বাবার কাছে গিয়ে বসুন, আমি এইখানে বসে চলে যেতে পারবো। মনে হলো মেয়েটি ও মেয়ের বাবা ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তবুও আমি বলাতে সে তারাতারি তার অসুস্থ বাবার পাশে গিয়ে বসলো। আমি আমার ব্যাগটা বাবাটার মাথার উপরের ক্যারিয়ারে রেখে বোনটাকে বললাম একটু লক্ষ্য রাখতে।

যাক, সারারাত পার করে ট্রেন যখন চট্টগ্রাম পৌঁছায় তার একটু আগে আমি আমার ব্যাগটি আনতে গেলে বাবাটা কি দিয়ে বা কি করে ধন্যবাদ দিলে আমি খুশী হবো যেনো ভাষা হারিয়ে ফেললেন। যাক, তারপর বললেন, আপনার বাড়ি কোথায়? বললাম। তিনি তাঁর বাড়ির কথা বললেন, কি করি জিজ্ঞাসা করলো, বললাম পুলিশ ইন্সপেক্টর। বললেন, বাবা সারারাত আমাদের জন্য কষ্ট করলেন! বললাম, এইটা কষ্ট হলো কই! আমার মেয়ে হলেও আমি এই কাজটাই করতাম। যাক, এক পর্যায়ে বাবাটা জিজ্ঞাসা করলেন কোথায় বাসা? বললাম। তিনি বললেন, আমাকে একটু সি এন জি তে তুলে দিবেন কষ্ট করে? কারন আমি কারো উপর ভর না দিয়ে চলতে পারিনা। যাক তাঁর কথামতো ট্রেন থেকে নামালাম। দেখলাম একটু হেটে হয়রান হয়ে যান তাই একটু বসেন আবার হাঁটেন। যাক শেষ পর্যন্ত সিএনজিতে তুলতেই বললেন, বাবা আসেন, আপনার বাসা তো আমার যাওয়ার পথে পরবে, তাই আপনাকে নামিয়ে দিয়ে আমরা যাবো। যেতে চাইছিলাম না কেমন যেনো বিনিময় মনে হচ্ছিলো। তবুও বাবাটা এমন করে বললেন যে না উঠে পারলাম না।

/ins>

সিএনজি তে কথার এক ফাঁকে বললেন, অনেক চেষ্টা করে একটার বেশী সীট পাইনি তাই আপনাকে কষ্ট করতে হলো। বললাম এইটা হতেই পারে, এইখানে কষ্ট বা দয়ার কিছু নেই; এইটা আমার দায়।

/ins>

পরে জানলাম তিনি সাবেক চেয়ারম্যন। তাঁর মেয়েটি চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে এমবিবিএস এর ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী। সিএনজি থেকে আমি যখন নেমে যাচ্ছি সে সময়, বাবাটা বললেন আমার ফোন নাম্বারটা দিতে; দিলাম। তিনি মিসড কল দিয়ে তাঁর নাম্বারটাও দিলেন। যাওয়ার সময় বললেন, এই কথা আমার সারাজীবন মনে থাকবে; অনেক দোয়া বাবা তোমার জন্য। অনেক বড় হও তুমি। এমন পুলিশ হয়? সবাই বাবাটার জন্য দোয়া করবেন আমিও চাই তিনি যেনো সুস্থ্য হয়ে আবার একা একা সব করতে পারেন, আমার মতো অধমকে যেনো পথ চলতে কাজে না লাগে। ভালো থেকো বাবা।

নারীকে সন্মান দেওয়া অর্থ মাকে সন্মান দেওয়া,
নারীকে সন্মান দেওয়া অর্থ বোনকে সন্মান দেওয়া ,
নারীকে সন্মান দেওয়া অর্থ স্ত্রীকে সন্মান দেওয়া ,
নারীকে সন্মান দেওয়া অর্থ কন্যাকে সন্মান দেওয়া ,
নারীকে সন্মান দেওয়ার অর্থই হলো নিজেকে সন্মান দেওয়া।

/ins>

একটা কথা যদি সবাই মনে মনে শপথ নেই, আজ থেকে আমি পুরুষ কর্তৃক কোন নারীর সন্মান নষ্ট হবে না বা আমি নারী কর্তৃক কোন পুরুষ অসম্মান হবে না, দেখবেন সমাজটা পাল্টে যাবে। সবাই কে সবাই যার যার প্রাপ্য সন্মানটুকু দিই। হোক শুরু আমাকে দিয়ে।

জয় হোক মানুষের,
জয় হোক মানবতার,
জাগ্রত হোক মানবিকতা।।

/ins>

এনএস

Comments With Facebook