/ins>

কমিউনিটিতে মিডিয়ার প্রতিযোগিতা চাই, প্রতিহিংসা নয়

শাহ আহমদ সাজ

নিউইয়র্কে এসেছি প্রায় ১০ বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। এই সময়ে আমার প্রাণের ঠিকানা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এখানের বাংলা কমিউনিটি। এযেন যুক্তরাষ্ট্রের বুকে এক খন্ড বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। আমার মিডিয়া জগতে আসার পেছনেও আমার এই কমিউনিটি। প্রথমে অনলাইন নিউজ পোর্টাল আওয়াজবিডি ডটকম তারপর সাপ্তাহিক আওয়াজ।

এর পেছনে সম্পূর্ণ প্রেরণা হলো আমার কমিউনিটি। প্রবাসের মাটিতে নিজের দেশের এবং প্রবাসের সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরার মধ্য দিয়ে আওয়াজ ইতোমধ্যে কমিউনিটিতে তার অবস্থান তৈরী করেছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আওয়াজের এমন পাঠকপ্রিয়তা আমাদের ভাবনার চাইতে বেশী দিয়েছে। এজন্য আমরা কমিউনিটির কাছে কৃতজ্ঞ। তবে ইদানিংকালে কমিউনিটি পাড়ায় মিডিয়া সংকুচনের প্রচেষ্ঠা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো আমরা কমিউনিটিতে মিডিয়ার সুন্দর প্রতিযোগিতা চাই, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়।
মিডিয়া শুধু সৃষ্টি করলেই হবেনা এর মান বজায় রাখতে হবে। পাঠকের চাহিদা পুরণ করলে যে কোন পত্রিকা যেমন তার অবস্থান সুসংহত করতে সক্ষম হবে। আবার নিজস্ব মান বজায় না রাখতে পারলে পত্রিকাটি কমিউনিটি থেকে হারিয়ে যাবে।

আর এলক্ষ্যেই কমিউনিটির প্রায় প্রতিটি পত্রিকার মাঝে এক ধরনের প্রতিযোগিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। যা আমাকে আনন্দ দেয়। কিন্তু নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে কিংবা জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে অন্য পত্রিকার বিজ্ঞাপনের বাজার সংকুচিত করার নোংরা ষড়যন্ত্র কোনভাবেই কাম্য হতে পারেনা। কমিউনিটির দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি সময়ের ব্যবধানে এখানে অনেক পত্রিকা হারিয়ে গেছে। দু’একটি পত্রিকা ব্যাতিত অধিকাংশ পত্রিকাই নিয়মিত বের হতে পারেনা। আবার কিছু পত্রিকা এটাকে ব্যবসা হিসেবে ব্যাবহার করে নিজেদের পছন্দমত নিউজ ও বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে পত্রিকা বের করে। এক সংখ্যা বের হবার পর আর কোন খবর নেই। আবার কোন বিশেষ দিবসকে সামনে রেখে শুরু হয় ছাপার কাজ। এযেন কোন সাময়িকী, পত্রিকা নয়। আমাদের লক্ষ্য একটি পত্রিকা অবশ্যই পত্রিকা। অনেকটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেই সম্পাদনার মত দুঃসাহসিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি। ঝরে পড়ার জন্য নয়।

/ins>

সম্প্রতি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত প্রথম ৯টি বাংলা সংবাদপত্রের প্রকাশক/সম্পাদকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সম্পাদকগণ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী কমিউনিটি বিনির্মাণে বাংলা মিডিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেছেন, প্রায় তিন দশক ধরে প্রকাশিত শীর্ষস্থানীয় বাংলা সংবাদপত্রগুলো আজ সঙ্কটের আর অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখী। কমিউনিটির বিজ্ঞাপন বাজার ছিন্ন-ভিন্ন করার অপচেষ্টা চলছে। একটির পর একটি ইট গেঁথে বাংলাদেশী কমিউনিটি গড়ে তোলার তিন দশকের অবদানকে মুছে দেয়ার উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় পাঠক আর বিজ্ঞাপনের বাজার যাচাই-বাছাই না করে নতুন নতুন পত্রিকা প্রকাশের কারণে কমিউনিটিতে অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

/ins>

মর্যাদা হারাতে চলেছে পেশাদার সাংবাদিকতা। বাংলা মিডিয়ার অবদানকে মুছে ফেলার অশুভ উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে রুখে দেয়ার জন্য কমিউনিটির প্রতি উদাত্ত্ব আহ্বান জানান তারা।
সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ দৃষ্টি নন্দন, সুবিশাল বেলোজিনো ব্যাঙ্কুয়েট পার্টি হলে গত ৭ মে সোমবার সন্ধ্যায় এই ব্যতিক্রমী মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় নিউইয়র্কের পুরনো ৯টি পত্রিকার প্রকাশক/সম্পাদক যথাক্রমে সাপ্তাহিক ঠিকানা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন, সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক দেশ বাংলা সম্পাদক ডা. চৌধুরী সারওয়ারুল হাসান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক আজকাল-এর প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ ও সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ মঞ্চে উপবিষ্ট থেকে বক্তব্য রাখেন, কমিউনিটির উদ্দেশ্যে নিজেদের কথা তুলে ধরেন এবং বাংলা মিডিয়াগুলো বাঁচিয়ে রাখতে কমিউনিটির করণীয় স্মরণ করেন। পরে সম্পাদকগণ উপস্থিত সুধীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত শীর্ষ ৯টি পত্রিকার সম্পাদকগণ এই প্রথমবারের মতো একত্রে এক মঞ্চে বসে সংবাদপত্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সুধীমহলের সাথে মতবিনিময় করার পাশাপাশি জবাবদিহীতার মুখোমুখী হন।

এই অনুষ্ঠানের পুরোটা জুড়েই ছিল নতুন পত্রিকার প্রকাশনা নিয়ে নানা নির্দেশনা। এমনকি বিজ্ঞাপনদাতাদেরকে তারা নিয়ন্ত্রনের কথা বলেছেন। পুরো বিশ্বজুড়ে এখন চলছে তারুণ্যের জয়গান। প্রবীনরা আমাদের পথ প্রদর্শক। তাদের ভালো গুনগুলো আমরা অর্জন করে সামনের পানে এগিয়ে যেতে চাই। কিন্তু তাই বলে তারুন্যের পথে বাধা সৃষ্টি করাটা তরুন প্রজন্ম ভাল ভাবে নিবেনা। আমি কৃতজ্ঞতাচিত্তে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি সেই জ্ঞানী এবং গুনীজনকে যারা কমিউনিটিতে পত্রিকা পড়ার মতো পাঠক সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু এটাও স্বীকার করতে হবে পত্রিকা হচ্ছে একটা শিল্প। এখানে উত্থান-পতন রয়েছে। তবে ভাল কাজের মাধ্যমে নিজেদের স্থায়ী আসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গোটা বিশ্বজুড়ে তরুনরা সকল ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্মারক রেখে যাচ্ছে।

/ins>

তাদের প্রেরণা দিচ্ছেন প্রবীনরা। কিন্তু আমাদের পথে প্রবীনদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি তরুন প্রজন্ম ভালভাবে গ্রহণ করবেনা। আমি সব সময় বলে থাকি এখনও বলছি আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই। কেউ আমাদের প্রতিপক্ষও নয়। আমরা চাই জ্ঞান ও বুদ্ধিভিত্তিক প্রতিযোগিতা। যার খোরাক হবে সত্য ও বাস্থনিষ্ট সংবাদ। যারা পাঠকের চাহিদা পুরণ করতে সক্ষম হবেন তারা ঠিকে থাকবেন। আর যারা পাঠকের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন না তারা ঝরে পড়বেন। আর এটাই প্রকৃত সত্য।

তাই আসুন প্রতিহিংসা নয়। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে কমিউনিটিতে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরি। বাংলাদেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরি বিশ্বময়। কমিউনিটিতে ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনকেও করি সুদৃঢ়। আগামীর দিনগুলো তারুণ্যের আগামীর দিনগুলি হবে প্রতিযোগিতার, প্রতিহিংসার নয়।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক
সাপ্তাহিক আওয়াজ

/ins>

Comments With Facebook