/ins>

উন্নত বিশ্বে আধুনিক ধর্ম প্রচার ও চর্চা !

জহুরা আকসা

এই দেশে আসা তখন একমাসও হয়নি, একদিন দুপুরে দুইজন মহিলা আমার নাম ধাম নিয়ে বাসায় এসে হাজির! নতুন নতুন আসলে যা হয় আর কী ? কিছুই তেমন একটা বুঝতাম না। তাই তাদের সাথে কথা বলা । এরা আসলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে “ যিহোবার ” বানী প্রচার করেন ! 
এদের মধ্যে একজনের নাম ছিল জেসিকা। জেসিকা বেশ মিশুকে আর হাসিখুশি টাপের একজন মানুষ ছিলেন। তাদের আন্তরিকতা আর ব্যবহারের কারণে প্রথম প্রথম আমি তাদের কথা শুনতাম এবং ভদ্রভাবে বুঝিয়ে বলতাম যে, “আমি আমার ধর্মে সন্তুষ্ট এবং আস্থাশীল। আমার ধর্ম শান্তির কথাই বলে।” না, তবুও তাদের কথা আমাকে শুনতেই হবে!
তারা প্রতি মাসে একবার করে আমাদের বাসায় আসতেন । সঙ্গী হিসেবে তাদের সাথে আসতো নতুন একজন করে মহিলা। তারা সবাই ফরাসী নাগরিক। তবুও তারা আমার সুবিধার জন্য বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করতেন।
দ্বিতীয়বার প্রেগনেন্সির সময় থেকে আমি তাদের সরাসরি এড়িয়ে চলি। বলি অসুস্থ , বাসায় মানুষ , খুব ব্যস্ত। কিন্তু এদের এত ধৈর্য্য ! নাছোড় বান্দা ! তবুও তারা আসতো ! 

এদের অত্যাচারে দুপুরে যদি কেউ কলিংবেল দিত , আমি দরজা খুলতাম না। এই কারণে দিনের বেলায় বাড়িতে আসা অনেক অতিথি ফেরৎ চলে যেত। আমি অসুস্থ বলে একদিন এক ভাবি রান্না করা তরকারী পাঠিয়ে ছিলেন।

কিন্তু আমি তো দুপুরে দরজা খুলি না। বিকালে ভাবী ফোন করে রাগ দেখিয়ে বললেন; “আপনি বাসায় বেল বাজে আর আপনি দরজা খুলেন না কেন ? কী সমস্যা আপনার ? কোথায় থাকেন ? ইত্যাদি ! ইত্যাদি!”
অবশ্য এই পদ্ধতিও বেশি দিন কাজে লাগেনি। একদিন দেখি বেল না দিয়েই তারা দলবল নিয়ে দোতালায় এসে হাজির ! কেউ হয়ত দরজা খুলে দিয়েছে। তা আবার তাদের সেই পুরান প্যাচাল শুরু করলেন । আরে বাবা , আমি তো বলেছি যে তোরা যা বলিস , তা তো আমি জানি । আমাদের কোরানের এর চেয় ভালো ভালো কথা বলা হয়েছে । যদিও অনেকেই সেটা মানে না । তাতে কি , সবাই তো জানে।
এরই মাঝে আরেকটা বিচ্ছিরি ঘটনা ঘটল। আমার স্বামী বাসায় ছিল না।

নতুন দুইজন অপরিচিত মহিলা এসে হাজির। এরাও যিহোবার বানী প্রচার করেন । আমি তাদের বললাম ; “ আমি আপনাদের যিহোবার বানী জানি ।আর আমি আপনাদের কথা শুনতে আগ্রহী নই।” কিন্তু তবুও তারা আমাকে তাদের বানী শুনিয়েই ছাড়বেন !
মহিলা দুইজন ফ্রেঞ্চ ছাড়া আর কিছুই পারেন না। আর আমার ফ্রেঞ্চ তখনো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে! যেহেতু রোজার দিন, মেজাজ খারাপ করা নিষেধ ,তাই খারাপ ব্যবহার করতে পারছিলাম না।
বিনীত হয়ে তাদের বললাম ; “আমি খুব ব্যস্ত এবং অসুস্থ।” তবুও তারা আবার সেই পুরানো বানী শুরু করলেন।

/ins>

অনেকটা অধৈর্য্য হয়ে আমি তাদের বললাম; “আপনারা যা বলচ্ছেন তা সবই আমাদের কুরআন শরীফ আরও বেশী এবং ভালোভাবে বলা হয়েছে। আর আপনাদের ঈশ্বর আমাদের নবী । আমরা তাকেও বিশ্বাস করি, সম্মান করি । আমাদের আল কুরআন শরীফ তার কথা সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে।
তখন বয়স্ক মহিলাটা উত্তেজিত হয়ে বললেন; “তাওরাতের পরে তাদের বাইবেল এসেছে। এর পরে আর কোনো ধর্ম আসেনি ।

/ins>

“
আমি বললাম; এটা তো আপনার বিশ্বাস। আমাদের বিশ্বাস তাওরাতের পরো জাবুর এর পরে ইঞ্জিল, আর কোরান সর্ব শেষ আসমানী কিতাব।
আমার কথায় মহিলা প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে বললেন ;” এটা ঠিক না ভুল! বাইবেল সর্বশেষ কিতাব! তারাই সঠিক! আর আমরা সবাই ভুল পথে আছি! ইত্যাদি … ইত্যাদি !” 
বয়স্ক মহিলাকে বেশি উত্তেজিত দেখে, আমারও মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। তাই আর দেরি না করে তাদের বিদায় জানিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলাম।

/ins>

Comments With Facebook