/ins>

অগ্রযাত্রা থামানোর অপচেষ্টা

আব্দুল্লাহ আল শাহীন

তিন বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আমাদের আড্ডার অধিকাংশ সময় বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে পার হয়। সেদিন সামাজিক অসংগতি নিয়ে আড্ডার ফাঁকে এক বন্ধু সহজ প্রশ্ন করল। তার প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশের জাতীয় খেলার নাম কি? সহজ উত্তর বলে সাথে সাথে বলে দিলাম কাবাডি। সে আবার প্রশ্ন করলো কাবাডি জাতীয় খেলা হওয়ার কারণ কি? উত্তর অজানা বলে জানার আগ্রহ দেখালাম। মুচকি হেসে সে নিজেই জবাব দিল। তার ভাষ্যমতে- কাবাডিতে যেমনটা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের পেছন থেকে পায়ে ধরে আটকানো হয়, তেমন আমাদের সমাজে কেউ যদি সামনে যাচ্ছে দৃশ্যমান হয় তখনই কিছু দুষ্কৃতি মনা লোক তার পেছন থেকে টান দেয় প্রয়োজনে পা ধরে রাখে। সমাজ ও খেলার পদ্ধতির মিলের কারণেই জাতীয় খেলা হয়েছে কাবাডি। তার কথা শুনে কিছুক্ষণ হাসছিলাম। আবার যুক্তি পেয়ে ভাবনায় পড়ে গেলাম।

যদিও তার বলাটা ছিল রম্য অর্থে তবে বর্তমান সমাজে আমরা এমনটাই দেখতে পাই। এসব থেকে দূরে না আসলে সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক উন্নতি অসম্ভব। কাউকে আটকানোর পরিবর্তে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া জরুরি। সম্ভব হলে এগিয়ে নিতে সহায়তা করা প্রয়োজন। তাছাড়া বুঝা উচিৎ কারো অগ্রযাত্রায় বিপত্তি ঘটানো অন্যায়। অগ্রযাত্রা রুখতে ত্রুটি বিচ্যুতি খুঁজে বেড়ানো ইসলাম সমর্থন করেনা। অথচ কাবাডির ন্যায় টেনে রাখতে গিয়ে ত্রুটি বিচ্যুতি খুঁজে তৃপ্তি পাই। একটি ত্রুটি ধরতে পারলে আকাশচুম্বী সফলতা মনে করি। সেই সফলতার আনন্দে লাফালাফি করে শুধু কান্ত হইনা শত মানুষের কাছে ত্রুটির বিবরণ সহকারে বলে বেড়াই।

আল্লাহ সোবহান আল্লাহু তায়ালা সূরা হুজরাতের ১২ নাম্বার আয়াতে পরিষ্কার ভাবে দোষ ত্রুটি বলে বেড়ানোর মত হীন কর্মের নিষেধ করে বলেছেন, “তোমারা মানুষের ত্রুটি বিচ্যুতি খুঁজে বেড়াবে না “।

/ins>

মহান আল্লাহর হুকুম মানেই আমাদের জন্য তা মানা ফরজ অন্যতায় আখেরাতে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। মহান আল্লাহ যেমন দয়ালু তেমনি কঠিন শাস্তি দাতা ও বটে।

/ins>

আল্লাহ’র রাসুলের (স:)  এর একটি হাদিস হচ্ছে,  ‘যে ব্যক্তি একজন মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে ঐ ব্যক্তির দোষ গোপন রাখবেন ‘(বুখারী)। এতো ভালো অফার পাওয়ার পরও আমরা তা কাজে লাগাতে পারিনা। আমাদের জন্য আল্লাহ তার রাসুলের মাধ্যমে দোষ ত্রুটি খুঁজা এবং তা বলে বেড়ানো থেকে দূরে রাখার জন্য বিশাল অফার দিয়ে রেখেছেন।

কারো টেনে ধরাতে অগ্রযাত্রা থামানো যাবেনা বরং আপনাকে আরো বেশি পরিশ্রমী হতে হবে। কিছু না কিছু আপনি পারেন। কবিতা লিখতে না পারলেও আবৃত্তি করতে পারেন। রাজনীতির মাঠে না থাকলেও আপনি রাজনীতি বুঝেন। অন্যায়ের প্রতিবাদে রাজপথে না থাকলেও মন থেকে প্রতিবাদ করতে পারেন। মজুলুমের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু করতে না পারলেও মানসিক ভাবে পক্ষে থাকতে পারেন। ভাত রান্না করতে না পারলেও আপনি ধান চাষ করতে পারেন। কম্পিউটারের সফটওয়ার বানাতে না জানলেও ইউজ করতে জানেন। তাহলে আপনি বসে আছেন কেন ? আপনি যা পারেন তা করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে যান ।আপনার যা বলার বলে ফেলুন কথার মাধ্যমে কিংবা লিখে প্রকাশ করুন। আপনার যা করার করে ফেলেন শরীরের শক্তি দিয়ে মাথার বুদ্ধি দিয়ে। এই সমাজ সংসার আপনার সাহস এবং কর্মকে মূল্যায়ন করবে আপনার নিরবতাকে নয়। সাহসের সাথে কর্ম সম্পন্ন করে মূল্যায়ন গ্রহণ করুন।

/ins>

জমিতে ধান চাষ না করলে যেমন ধান হয় না তেমনি কিছু একটা না করতে পারলে,  কিছু একটা করে দেখাতে না পারলে মূল্যায়ন ও হবেনা। এগিয়ে যান নিজের পরিচয় নিজেই করিয়ে দেন ।যা জানেন তা করে দেখান যা বুঝেন তা সমাজকে জানান দেন। নিজের মহৎ কাজের মাধ্যমে অবশ্যই সমাজের কিছু না কিছু উপকারে আসবে।ভালো কিছু করার লক্ষে এগিয়ে আসতে হবে। নিজেকে প্রকাশ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে । সর্বোপরি মহান রবের কাছে সাহায্য চাইতে হবে নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগানোর জন্য। কারো রক্তচক্ষু কিংবা টেনে রাখার চেষ্টা সফল হবেনা।

লেখক : কলামিস্ট 

/ins>

Comments With Facebook